আকাশের বামনেরা


মে মাসের অসহ্য গরমে উত্তর কলকাতার এক সরু গলিতে একটা ছোট পান বিড়ীর  দোকানের
সামনে দারিয়ে জীবনের প্রথম সিগারেটটা ধরাল আকাশ।

“ব্যাপার টা কি বলতো ? হটাৎ সিগারেট খাওয়া শুরু করলি কবে থেকে?” – নিজের সিগারেট টা ধরিয়ে জিগ্যেস করল অভ্র।

“চাপ লাগছে?  মেয়েটা কে তো খারাপ দেখতে না। তোর সমস্যা টা কি বলত?”

আকাশের চোখ আকাশের দিকে। মনে এক্ রাশ ভাবনা। আঙ্গুলের ফাকে ছোট হতে থাকা সিগারেট।

“ব্যাপার টা ঠিক হচ্ছেনা জানিস তো।”

“মানে? কথা বার্তা এত দূর এগোল বলেই তো পাকা দেখা করতে এলি! এখন মনে হচ্ছে তোর যে ব্যাপারটা ঠিক নয়ে! ইয়ারকি হচ্ছে নাকি?” – অভ্রর কপালে ঘামের ফোঁটা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত মদ্যপান এবং অনিয়মিত শরীরচর্চার ফলে আজ বছর ঘানেক ধরে উচ্চ রক্তচাপের শিকার সে। এই অভ্রই কলেজে পড়ার সময় টানা তিন বছর ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ছিল।

“কিন্তু এর পরে কি? বিয়ে করে ফেলবো? এমন এক জন কে যার সঙ্গে আলাপ তিন মাস আগে? মানলাম ভাল দেখতে। বুঝলাম তোর ও মনে ধরেছে। কিন্তু তার পর কি? সংসার শুরু করে দেব? ব্যাস আগামি পঁচিশ টা বছর চাকরি আর সংসার করেই কেটে যাবে? এটাই কি পরিনতি? এটাই কি সত্যি ছেয়েছিলাম চিরকাল ?”

এক নিঃশ্বাসে কথা গুলো বলে ফেলল আকাশ। ফুরিয়ে যাওয়া সিগারেট এর ফিল্টার টা ছুরে ফেলল ডাস্টবিনে।

দোকানে একটা বাচ্চা ছেলে বসেছিল। খুব সম্ভবত মালিক নিজের ছেলে কে বসিয়ে মধ্যাহ্ন্ ভোজ সারতে গেছে।

আর একটা সিগারেট চেয়ে নিল সে। জীবনের দ্বিতীয় সিগারেট। যদিও তার ফুস্ফুসের স্কোর এখনও

শুন্য।

“ভাই! তোর কি নার্ভাস ব্রেকডাউন হল শেষ পর্যন্ত? উপরে ফিরে চল ভাই। সবাই অপেক্ষা করছে। প্লিজ এরম করিস না। পিশেমশাই এখুনি না খুজতে আসে নীচে!” – অভ্রর শার্টে ঘামের দাগ স্পষ্ট।  পরিস্থিতির চাপে সে আর নতুন সিগারেট ধরায়েনি। নিজের পিসতুতো ভাই আকাশ কে সে খুব ভাল করে চেনে। উচ্চ মাধ্যমিক এবং জয়েন্ট এন্ট্রান্স এর এক মাস আগে বাড়ী থেকে পালিয়েছিল সে। পিসেমশাই এর ইচ্ছে ছিল ছেলে কে ডাক্তার বানাবার। আকাশ এর হসপিটাল এর প্রতি ছোটবেলা থেকে অনীহা। পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে বাড়ী ফিরে উচ্চ মাধ্যমিক এবং জয়েন্ট দুটোই ভাল করে উৎরেছিল আকাশ । শুধু মেডিকেল এর যা র‍্যাঙ্ক এসেছিল তাতে শুধু ডেনটাল হত। তো আকাশ একটা প্রথম শ্রেণীর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ভর্তি হয়ে যায়। ছেলেটা একবার কিছু ঠিক করে ফেললে আর ভাবেনা। কিন্তু আকাশ আজ ভাবছে। আর অভ্র যে খুব একটা ভাবতে পছন্দ করেনা  সেও ভাবতে বাধ্য হয়েছে।

“নীচে কেন নামলাম জানিস?”

“সিগারেট খেতে যে নামিসনি সেটা বুঝতেই পারছি। কিন্তু তোর মতি গতি ভাল  ঠেকছেনা ভাই।”

“একটা বামন এর যদি দেখা পেতাম তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত বুঝলি। নীচে এলাম একটা বামনের

খোঁজে।”

“বামন! দ্যাখ আকাশ ফাজলামির একটা সীমা থাকে! আমি কিন্তু এটা আর নিতে পারছিনা। তুই উপরে চ নাহলে আমি তোর বাবা কে ফোন লাগাচ্ছি এখুনি!”

অভ্র দোকানের টাকাটা মেটাতে যাবে এমন সময় একজন লোক পেছন থেকে এসে দোকানে ঢুকল।

“খোকা কি ছিল এনাদের?”

দোকানের মালিক জিগ্যেস করল বাচ্চাটাকে।

আকাশ লোকটার গলার বসা আওয়াজ শুনে পেছন ঘুরে তাকিয়ে দেখল লোকটা একটা বামন।

*

(চলবে)

 

 

 

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s